Friday, 7 July 2017

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে হলে কীভাবে কী করতে হয়

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আশা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই দেশের বাইরে পড়াশোনার সুযোগ খোঁজেন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করা বেশ জনপ্রিয়। তবে শুধু বাংলাদেশে নয়, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় জনপ্রিয়তম দেশ। বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। তুলনামূলক অন্যান্য সমমানের দেশের তুলনায় কম খরচে এমন শান্তিপূর্ণ একটি দেশে মানসম্মত শিক্ষার কারণে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে দেশটি প্রতিবছর হাতছানি দেয় হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খেয়ালে রাখতে হবে।

প্রস্তুতি নিতে হবে পরিকল্পনা করে
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসাতে আবেদন করার আগে আবেদনকারীকে কয়েকটি দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়াতে আসতে হলে উদ্দেশ্য অবশ্যি শিক্ষাই হতে হবে। এর ব্যতিক্রম ভাবনা নিয়ে এ ভিসায় আবেদন না করাই শ্রেয়। আর সে ক্ষেত্রে সত্যিকার মেধাবী হওয়াটাই প্রাধান্য পায় সবার আগে। এর পরপরই অর্থনৈতিক ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজের খরচ বহনের আর্থিক সচ্ছলতা আবেদনকারীর পরিবারের রয়েছে কিনা তা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। যদিও পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের বেশ কতক সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, তবে সে উপার্জনে অনেক সময় খরচ চালাতে হিমশিম খান অনেকে। তাই এ বিষয়টাকে অনেকটা বোনাস হিসেবে ধরে রাখাই ভালো।
ইংরেজির দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে হবে
ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের মাপকাঠি না হলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে গেলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতাই প্রধান সোপান হয়ে দাঁড়ায় বিদেশে পড়াশোনা করতে। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর চেয়েও অস্ট্রেলিয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। ইংরেজির দক্ষতা প্রমাণ ছাড়া শিক্ষার্থী হিসেবে এ দেশে ভিসা পাওয়া অসম্ভব। তাই ইংরেজি ভাষা জ্ঞানে বেশ পাকাপোক্ত হওয়াটা খুবই জরুরি। বর্তমানে ইংরেজি ভাষা জ্ঞান প্রমাণ করার অনেক পরীক্ষা থাকলেও ‘আইইএলটিএস’ বেশি পরিচিত। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদনকারী স্নাতক বা তার নিচে পড়তে চাইলে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা প্রমাণের পরীক্ষায় অর্থাৎ আইইএলটিএস-এ ন্যূনতম সাড়ে ৫ পেতে হবে। কোর্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেদে তা বেশি স্কোরেরও প্রয়োজন হতে পারে। আর আবেদনকারী স্নাতকোত্তর পড়তে চাইলে আইইএলটিএস-এ ন্যূনতম ৬ স্কোর থাকতে হবে। তবে আবেদনকারী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। তবে আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্তে বেশি স্কোর করারও প্রয়োজন পড়ে যা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটই দেওয়া থাকে।
বিষয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ
বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক এমন অনেকেই কোন বিষয়ে পড়তে যাবে সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। তারা কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তা নির্ধারণ করতে পারেন না। নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন, এমনটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত। তবে দেখা গেছে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরই উদ্দেশ্য থাকে স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া বা স্থায়ীভাবে বসবাস করা। সেটা দোষের কিছু নয়। তবে সঠিক বিষয় নির্ধারণ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোতে তাদের দেশের বাজারে কোন পেশার কতটুকু চাহিদা সেটার একটা ‘ডিমান্ড লিস্ট’ থাকে, যেখানে সেসব বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। তো, চাহিদা বেশি, সে পেশাগুলোর বিষয়ে পড়াশোনা করলে চাকরি পেতে সহজ হয়। ডিমান্ড লিস্টে নেই এমন বিষয় নিয়ে পড়তে গেলে এ দিয়ে স্থায়ীভাবে অভিবাসনের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ডিমান্ড লিস্টে নেই এমন বিষয়ের টিউশন ফি বেশি দেখা যায়। আবার বিষয় ছাড়াও শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নামধামের কারণেই সেমিস্টার ফি অনেক পার্থক্য হয়। সেগুলো আগেভাগে দেখে নেওয়া ভালো। কারণ অনেকেই এখানে এসে খরচ বেশি বলে বিষয় পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু তখন বিষয় পরিবর্তন করা অনেক জটিল হয়ে ওঠে। এমনও হয় এই বিষয় পরিবর্তন করা নিয়ে অনেকের ভিসাও বাতিল হয়ে যায়। তাই বিষয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় আর অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ডিমান্ড লিস্টও ওয়েবসাইটে দেখে আসা যায় নিচের লিংকে:
<www.border.gov.au/Trav/Work/Work/Skills-assessment-and-assessing-authorities/skilled-occupations-lists>
এ ছাড়া, আজকাল এসব বিষয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অনেক বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে, সেগুলো ঘেঁটেঘুঁটে দেখতে হবে।

শেষ তারিখ ও সর্বশেষ খবর জানতে হবে
যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে, আবেদন করতে গিয়ে দেখা গেল ভর্তির শেষ সময়টাই পার হয়ে গেছে অথবা ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও দেখা গেল কিছুদিন আগেই নির্বাচিত বিষয়টি ডিমান্ড লিস্ট থেকে বাতিল হয়ে গেছে। তাই যত দূর সম্ভব ভর্তি, ভিসা ও কাগজপত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত সকল নির্ধারিত তারিখ ও সর্বশেষ খবর সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। ডিমান্ড লিস্টের হালনাগাদ সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। এ জাতীয় সকল কাজের শেষ খবরাখবরের আপডেট রাখতে হবে নিপুণভাবে।
স্পনসর বা গ্যারান্টর নিশ্চিত করুন
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে হলে ব্যাংকে টাকা দেখাতে হয়। বিষয়টা অনেকটা এ রকমই। অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা আবেদন করতে গেলে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, এ দেশে এসে যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। এ জন্য আবেদনকারীর অভিভাবক বা আত্মীয়ের ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে সে প্রমাণ দেখাতে হবে। একে সাধারণত ‘স্পনসরশিপ বা গ্যারান্টর’ বলে। তবে অভিভাবকের সেই সামর্থ্য না থাকলে এমন একজন স্পনসরের প্রয়োজন হবে যিনি তার ব্যাংকে আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখবেন যা নিশ্চিত করবে যে, আবেদনকারীর পড়াশোনার খরচ তিনি চালাবেন। তবে এ জন্য কোনো নগদ অর্থ ব্যয় করতে হয় না। সাধারণত ব্যাংকে টাকা জমা রাখার প্রমাণপত্রই যথেষ্ট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দূতাবাস তদন্ত করে দেখে এই টাকা সত্যি সত্যি আছে কি না অথবা বৈধ বা কর পরিশোধিত কিনা। আগে নিজেই নিজের স্পনসর হতে পারা যেত তবে এমন ঘটনা খুব কম। বর্তমান নিয়মে আত্মীয়-স্বজন অথবা অন্য কেউ স্পনসর বা গ্যারান্টর হতে পারে কিন্তু যতটুকু জানা যায় বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদন করলে মা-বাবার আর্থিক সামর্থ্যতাকেই অর্থাৎ মা-বাবাকেই স্পনসর বা গ্যারান্টর হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জীবনযাপন খরচ
১ জুলাই ২০১৬ থেকে ১২ মাসের জন্য খরচ একজন ছাত্রের জন্য ১৯ হাজার ৮৩০ ডলার দেখাতে হবে এবং যদি কোর্স ফি তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার ডলার হয় তবে এক বছরের পরিমাণ ১৬ হাজার ৬৬০ ডলার আর সঙ্গে অন্যান্য খরচ করে স্পনসরের ব্যাংকে দেখাতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার অভিপ্রায় হতে হবে অস্থায়ী
সমস্ত ছাত্র ভিসা আবেদনকারীদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার অভিপ্রায় হচ্ছে অস্থায়ী। অর্থাৎ পড়াশোনা করে নিজ দেশের চলে আসার ব্যাপারটা নিশ্চিত হলেই ভিসা কর্মকর্তা ভিসা মঞ্জুর করেন।
ওপরের উল্লেখিত স্টুডেন্ট ভিসার সাধারণ ধারণার স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করতে হলে পরে ধাপে ধাপে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে হবে।
স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করতে হলে
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করতে হলে প্রথমেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনোনীত এজেন্টদের কাছে আবেদন করতে হবে। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের মনোনীত এজেন্টদের এ কাজের জন্য কমিশন দিয়ে থাকে। পূর্ণকালীন মেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি ভর্তি মঞ্জুর করে তবেই স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করা যাবে দেশটিতে।
যেখানে আবেদন করতে হবে
বাংলাদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীরা এখন সরাসরি অনলাইনে ইমি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের এই লিংকে অনলাইন <online.immi.gov.au/lusc/login> আবেদন করা হয়।
ভিসা সংশ্লিষ্ট যেসব কাগজপত্র সাধারণত প্রদান করতে হয়
ভিসা সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র স্ক্যান করে ভিসা আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হয়। কোনো কাগজ ইংরেজিতে না হলে সেটা অনুমোদিত অনুবাদকের কাছ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদনপত্রে যুক্ত করণীয় কাগজপত্র
*সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির অনুমতি সংক্রান্ত চিঠি (কর্নফারমেশন অব এনরোলমেন্ট)
*স্বাস্থ্য বিমার প্রমাণপত্র—সাধারণত ভর্তির অনুমতি সংক্রান্ত চিঠির সঙ্গেই থাকে।
*জাতীয় পরিচয়পত্র।
*জন্ম সনদ।
*বর্তমান ও আগের পাসপোর্টের ব্যবহৃত পাতা।
*শিক্ষাগত যোগ্যতা (সকল বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট) ও কর্ম-অভিজ্ঞতা সনদ।
*অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে দেওয়া বিবৃতি যা ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ হিসেবে পরিচিত। যেখানে সংশ্লিষ্ট কোর্সের মাধ্যমে আবেদনকারী কীভাবে উপকৃত হবেন তার ব্যাখ্যা থাকবে।
*পূরণকৃত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের (স্পনসর বা গ্যারান্টর) ফরম।
*স্পনসরের সঙ্গে আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে জন্ম-সনদ, পাসপোর্ট কিংবা স্কুলের কাগজপত্র।
*স্পনসরের আয়ের উৎসের বিস্তারিত কাগজপত্র।
*সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার ইতিহাস থাকলে সেখানে কাজের রেকর্ড ও ছাড়পত্র।
*কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (১২ মাসের বেশি পুরোনো নয়)।
*বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী, সন্তানদের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সনদ ও বিবাহ সনদ।
*স্বামী-স্ত্রী কেউ মারা গিয়ে থাকলে বা বিচ্ছেদ হয়ে থাকলে মৃত্যুসনদ বা বিচ্ছেদসংক্রান্ত কাগজপত্র।
*স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রমাণপত্র।
ভিসার আবেদন ফি ও জমাদান পদ্ধতি
ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করা শেষ হলে আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই ভিসা ফি দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন করতে ৫৬০ অস্ট্রেলিয় ডলার বা তার সমমূল্য টাকা ভিসা ফি হিসেবে অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডেও পরিশোধ করা যায়।
ভিসা আবেদন করা হয়ে গেলে
ইমি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করা হয়ে গেলে ভিসাটি যাচাই করে কিছুদিনের মধ্যেই যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অতিরিক্ত তথ্য চেয়ে ভিসা বিভাগ ইমেইল করতে পারে। এ ছাড়া ইমি অ্যাকাউন্টেই ভিসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যাবে। ভিসা মঞ্জুর হয়ে গেলে ভিসা নম্বর ও শর্তাবলি জানিয়ে দিয়ে আবার ভিসা বিভাগ ইমেইল করে। আর ভিসা মঞ্জুর না হলে এর কারণগুলোও জানিয়ে দেওয়া হয়।
ভিসা হয়ে গেলে
ভিসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল আবশ্যিক শর্ত এবং এক সেমিস্টারের টিউশন ফি জমা দিলে সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসা মঞ্জুর হয়। তারপর উড়োজাহাজে চেপে স্বপ্নের পাখা মেলে ধরতে আর কোনো বাধা থাকে না। তবে একটা ধাক্কা অস্ট্রেলিয়া এসে অনেকই খান। সেমিস্টার ফি, বিমানের টিকিট, মাসখানিক চলার মতো নগদ অর্থ সব মিলিয়ে প্রায় লাখ দশেক টাকা খরচ করার পর কিছুদিনের মধ্যেই আবার যখন সেমিস্টার ফিসহ অন্যান্য খরচের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন পড়ে, তখন ধাক্কাটা অনেক বড় লাগে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর নিজের খরচটা নিজেকেই জোগাড় করতে হয়। এ দেশে আসা প্রায় সব শিক্ষার্থীরা এমনটাই করেন। কিন্তু বাংলাদেশে থাকতে সাধারণত যেহেতু কেউ কাজ করেন না, কিন্তু এখানে এসে খরচ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই একাধিক রাতদিন কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠেন। সে জন্য দেশে থাকতেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে কঠোর পরিশ্রম করার, যদি না পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়। এখানে কাজের ফাঁকে লেখাপড়া নয়, লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকেই কাজ করতে হয়। পড়াশোনা অবিশ্যি পুরোপুরি ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে হয়। কোর্স নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হয়। ক্লাসে উপস্থিতির হার ও পরীক্ষায় পাশের গরমিল হলে ভিসা যেকোনো মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যেতে পারে। আর এটা কথার কথা ভাবলে বিপদ নিশ্চিত।
কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী। ইমেইল: kawsark@gmail.com


Friday, 7 April 2017

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সাথে share করছি

Engr Mahmudul Hasan

https://www.facebook.com/cse.mahmud/posts/1341555732556656

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সাথে share করছি । হয়তো কারও কাজে লাগলেও লাগতে পারে । বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় CGPA সংক্রান্ত ৩ ধরণের তথ্য পেয়েছি ।
(১) CGPA কোনও ব্যাপারই না । CGPA দিয়ে কিছুই আসে যায় না ।
(২) CGPA 3.00 – এর বেশি হলেই যথেষ্ট ।
(৩) CGPA 3.50 – এর কম হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার ।
(১) নং তথ্যটি 100% ভুল । (২) নং তথ্যটি 50% সঠিক । এবং (৩) নং তথ্যটিও 50% সঠিক । যাদের CGPA 3.50 – এর চাইতে বেশি, তাদের অবস্থা খুবই ভালো । তবে, যাদের CGPA 3.00 – এর চাইতে বেশি, কিন্তু, 3.50 – এর চাইতে কম, তাদেরও হতাশ হউয়ার কোনও কারণ নাই । তাদেরকে অবশ্য একটু বেশি প্যারা নিতে হবে । GRE, IELTS, TOFEL, JLPT ( Japanese Language Proficiency Test ) কিংবা NAT Test ইত্যাদিতে ভালো score থাকা লাগবে । সেই সাথে Research Paper Publication থাকলে আরোও ভালো হয় । না থাকলেও problem নাই । আবার যাদের CGPA 3.50 – এর চাইতে বেশি, তাদেরকেও প্যারা নিতে হবে । তবে প্যারার পরিমাণ কারও ক্ষেত্রে কম । আবার কারও ক্ষেত্রে বেশি । আর যাদের CGPA 3.00 – এর চাইতে কম, আবার সবাইকে বলে বেড়ায় যে, “ CGPA ধুইয়া পানি খাও । “, তাদের জন্য রইলো আমার ২ মিনিট নীরবতা এবং এক বালতি সমবেদনা ।
এবার আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আসি । আমি ২০১৪ সালে Mawlana Bhashani Science and Technology University থেকে Computer Science and Engineering থেকে B.Sc. (Engineering) সম্পন্ন করি । CGPA 3.28 out of 4.00 . এরপর একটি Software Firm – এ ASP.Net – এর উপর ১ বছর চাকরি করি । চাকরির পাশাপাশি Daffodil International University থেকে Computer Science and Engineering – এ M.Sc. করি । CGPA 3.96 out of 4.00 . ২০১৫ সালে আমি M.Sc. সম্পন্ন করি । M.Sc. – তে সর্বোচ্চ CGPA পাওয়ার জন্য Vice Chancellor’s Gold Medal অর্জন করি । IELTS – এ 6.0 পাই । এরপর Australia – এর CQUniversity থেকে 20% scholarship – সহ Master of Information Technology পড়ার সুযোগ পাই । CQUniversity Australia – এর একটি public university . Master of Information Technology Course – টি Australian Computer Council ( ACS ) অনুমোদিত । Sponsor ছিলো আমার বাবা মা দুইজন । Sponsor – এর annual income ১৮ লাখ টাকা । এছাড়া ৩০ লাখ টাকার Savings Account এবং ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেখিয়েছিলাম । Income Tex – এর certificate – ও show করেছিলাম ।
কিন্তু অনভিজ্ঞ Visa Agent – দের দিয়ে visa processing করিয়ে বিপদে পড়েছি । Australian Embassy – তে visa interview – এর আগে তারা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলো যে, আমি যেন বলি, “ বিদেশে পড়াশোনা শেষ করার পর বিদেশে চাকরি করার ইচ্ছা আছে । “ আমি জানতাম, visa interview – তে এটা বলা উচিৎ না । আমার বলা উচিৎ পড়াশোনা শেষ করার পর আমি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাই । আবার ভাবলাম, visa agent – রা আমাকে যা শিখিয়েছে, সেটা বলাটাই বোধ হয় ভালো । তাই আমি visa interview – তে বললাম, “ আমি পড়াশোনা শেষ করার পর বিশ্বের সেরা IT Firm, যেমন, Google, Yahoo কিংবা Microsoft – এ চাকরি করতে চাই । “ Google, Yahoo কিংবা Microsoft USA – তে অবস্থিত । আমি কিন্তু বলি নাই যে, আমি Australia – তে চাকরি করতে চাই । Just বলেছি, যে, বাংলাদেশের বাইরে চাকরি করতে চাই । এবং সেটাই ছিলো আমার জীবনের অন্যতম সেরা ভুল গুলোর একটি ।
আবার, Australia – এর visa officer আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো যে, আমি তো already বাংলাদেশ থেকে CSE – তে M.Sc. করেছি । তাহলে, আমি আবার কেন Australia – তে Master of Information Technology course করতে চাচ্ছি । আমি এ প্রশ্নটিরও যথাযথ উত্তর দিতে পারি নাই । আমি যদি আমার বাংলাদেশের M.Sc. Degree show না করতাম, তাহলে, কোনও ঝামেলাই হতো না । আমার visa agent – দের উচিৎ ছিলো আমাকে এই advice দেওয়া । যে, আমার বাংলাদেশের M.Sc. Degree hide করে Australia – তে M.Sc. course – এর জন্য apply করতে হবে । যা হোক, আমার Australia – এর Student visa refuse হলো । Visa Refusal Letter – এ লিখেদিলো, Non – Genuine Temporary Entrant . আমি আর কোনও দিনই Australia – এর student visa – এর জন্য apply করতে পারব না ।
এরপর আমার agent – দের কাছে পরামর্শ চাইলাম যে, কোন দেশে apply করলে ভালো হয় । তারা বললো New Zealand – এ apply করার জন্য । আমিও আমার agent – দের কথামতো তৃতীয় ভুল পদক্ষেপ নিলাম । Australia এবং New Zealand visa refusal information – সহ সবরকম information share করে । New Zealand Embassy আমার Australian Visa Refusal খুঁজে বের করলো । এবং New Zealand – এর visa ও refuse হয়ে গেলো । Australia – এর visa refuse হলে, কখনই New Zealand – এ apply করা উচিৎ না । আমার agent – রা শুধু Australia, New Zealand আর Malaysia – এই তিনটা দেশ নিয়েই কাজ করতো । আমি যদি Australia – এর visa refuse হউয়ার পর অন্য কোনও agent – এর সাহায্য নিয়ে USA কিংবা Canada যেতাম, তাহলে, আমার সাধের agent – দের কোনও লাভ হত না ।
New Zealand – এর visa refuse হউয়ার পর আমার সাধের agent – রা আমাকে চতুর্থ ভুল advice দিলো । তারা আমাকে বললো Malaysia – তে apply করার জন্য । Malaysia – এর visa পাওয়া নাকি খুবই সহজ । Previous visa refusal নাকি কোনও Bad Effect ফেলে না । আমার সাধের agent – রা Australia, New Zealand এবং Malaysia এই তিনটা দেশ নিয়েই কাজ করতো । কিন্তু আমি তাদের চতুর্থ ভুল advice Follow করলাম না । Internet – এ Malaysia – এর job market সম্পর্কে খোঁজ নিলাম । জানতে পারলাম, প্রবাশীদের জন্য Malaysia – এর Job Market খুবই সীমিত । Malaysian Employer – রা বিদেশীদের চাকরি দিতে চায় না । বহু International Students Malaysia – তে পড়াশোনা করার পর চাকরি না পেয়ে দেশে ফিরে আসে । তাই Malaysia যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করলাম ।
Australia – তে tuition fee বাবদ ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম । ৫ লাখ টাকা Refund পেয়েছি । আর বাকি ৫ লাখ টাকা loss . বাসায় আব্বু শুধু রাগারাগি করতো । বলতো, বাসা থেকে বের হয়ে যা ।
যাহোক, আমি হাল ছেড়ে দিলাম না । Internet – এ বিভিন্ন দেশ নিয়ে research করতে থাকলাম । কোন দেশের visa পাওয়া সহজ, চাকরির সুযোগ অনেক বেশি এবং Previous #visa #refusal bad effect ফেলে না । শেষ পর্যন্ত #Japan যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম । এবার আর কোনও অনভিজ্ঞ visa agent – দের দিয়া কাজ করাব না । জাপানের visa process করার জন্য বাংলাদেশের সেরা agent – দের কাছে গেলাম । আমার এখনকার agent – রা অনেক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ । তাদের কাছে জানতে পারলাম, জাপানে M.Sc. করতে চাইলে প্রথমে, বাংলাদেশ থেকে ৬ মাসের Japanese Language Course করতে হবে । তারপর জাপান যেয়ে আরো এক বছর বা দুই বছর Japanese Language Course করতে হবে । তারপর M.Sc. করতে পারবো ।
২০১৬ সালের May মাসে তাদের কাছে Japanese Language Course – এ ভর্তি হই । ২০১৬ সালের December মাসে Japanese Language Test: NAT Test – এ 167 out of 180 score করি, যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ Record . এছাড়া JLPT (Japanese Language Proficiency Test) N5 – এ 118 out of 180 score করি । Japanese Language Institute : Shinjuku International Exchange School, Tokyo – এ Japanese Language Course করার সুযোগ পাই । April 2017 intake – এ । আল্লাহর অশেষ রহমতে, এ বছর, ২০১৭ সালের March মাসে জাপানের student visa পাই । আর কয়েকদিন পর April মাসে ইনশাল্লাহ জাপান যাবো ।
যদি কষ্ট করে ধৈর্য সহকারে পুরোটুকু পড়ে থাকেন, তাহলে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, যে, visa processing – এর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ visa agent – দের ভূমিকা কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ । এখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ agent – দের তালিকা দিলাম ।
(১) Australia, New Zealand ও Canada – এর জন্য
IDP Education
https://www.idp.com/bangladesh/studyabroad
(২) Japan – এর জন্য
Daffodil Japan IT
http://djit.ac/
অথবা,
Ichiban Study Link
https://www.facebook.com/ichibansl/
(৩) GRE, USA বা Canada – এর জন্য
GRE Center
http://www.grecenter.org/wp/
শুরুর কথা দিয়েই শেষ করি । কাউকে কম প্যারা নিতে হয় । আর কাউকে বেশি । আমাকে প্যারা নিতে হয়েছে অনেক বেশি । কিন্তু আমি কখনই হাল ছাড়ি নাই । কারণ, হেরে যাবো বলে তো স্বপ্ন দেখি নাই । Life is nothing, But the game of something ……

Tuesday, 31 January 2017

কোমরব্যথা হলে

পিএলআইডি—এটি সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে বেশি হয়। কোমরের প্রতিটি হাড়ের মধ্যে ডিস্ক থাকে। এই ডিস্ক যদি বের হয়ে গিয়ে স্নায়ুমূলের ওপর চাপ ফেলে, তাহলে কোমরে ব্যথা হতে পারে

কোমর ও ঘাড়ব্যথার রোগীর সংখ্যা আমাদের দেশে দিন দিন বেড়েই চলছে। ঘাড় ও কোমরব্যথার অন্যতম কারণ হলো অসচেতনতা। একটু সচেতন হলে এই ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। ঘাড় ও কোমরব্যথা বেশি হয় তাঁদের, যাঁরা বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে সাধারণত শরীরের অঙ্গস্থিতি (পশ্চার) সঠিকভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে ঘাড় ও কোমরের মাংসপেশিতে স্ট্রেস থাকে দীর্ঘক্ষণ। এই স্ট্রেস থাকার কারণে মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে সমস্যা দেখা দেয়।
 কেন হয় ব্যথা?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোমরের হাড়গুলোতে ক্ষয় হয়, যাকে লাম্বার স্পনডোলাইসিস বলে। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এই ক্ষয় শুরু হয়।
পিএলআইডি—এটি সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে বেশি হয়। কোমরের প্রতিটি হাড়ের মধ্যে ডিস্ক থাকে। এই ডিস্ক যদি বের হয়ে গিয়ে স্নায়ুমূলের ওপর চাপ ফেলে, তাহলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যেসব কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে—
* ভারী বস্তু তোলার কাজ করলে
* কোমরে আঘাত পেলে
* অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে, বসে বা সামনে ঝুঁকে কাজ করলে
* তিন থেকে পাঁচ বছর একটানা সেলাইকাজ করলে
* নিয়মিত গাড়ি চালালে
* কুঁজো হয়ে হাঁটলে বা বসলে
* শরীরের ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি হলে
* গর্ভকালীনও কোমরে ব্যথা হতে পারে
কোমরব্যথায় করণীয়
লো ব্যাক পেইন বা কোমরব্যথায় ভোগেননি, এমন মানুষের সংখ্যা কম। সাধারণত নারীরা কোমরব্যথায় বেশি ভোগেন। কোমরব্যথার চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অবশ্যই ভালো। কিছু নিয়ম মেনে চললে সাধারণত বেশ সুস্থ থাকা যায়।
* শরীর সামনে বাঁকাবেন না। কোনো কিছু নিচ থেকে তোলার সময় শরীর না বাঁকিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে তুলুন। ভারী জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।
* এক হাতে কোনো ভারী জিনিস বহন করবেন না। এতে যে হাতে বহন করবেন, সে পাশের স্পাইনের মাংসপেশিতে টান লাগবে।
* কোমর সোজা রেখে বসুন। এর জন্য চেয়ারে লাম্বার রোল বা ছোট কুশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
* শক্ত বিছানায় ঘুমাবেন। জাজিম ও পাতলা একটি তোশকের বিছানায় ঘুমাবেন। কোনো ফোম ব্যবহার করবেন না।
* দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকবেন না। যদি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে প্রতি ২০ মিনিট পরপর ৫ মিনিট করে বসে পড়ুন। দাঁড়ানোর সময় ফুটরেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পরপর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।
* বিছানা থেকে ওঠার সময় সব সময় এক পাশে কাত হয়ে উঠবেন
* অল্প হিলের জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন
* তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদণ্ড যাতে সোজা অবস্থায় থাকে, সে জন্য উঁচু টুল, টেবিল বা চেয়ার ব্যবহার করবেন
* কেনাকাটার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানোর বা হাঁটার পরে একটু বসবেন
নিয়মিত ব্যায়াম
নিয়মিত ব্যায়াম কোমর ব্যথার ভালো প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। তবে সামনের দিকে ঝুঁকে কোনো ব্যায়াম করবেন না। এতে ব্যথা আরও বাড়বে। প্রথম সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন।


 এভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে আরাম করুন।


ব্যায়াম
* উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটি পাশে রেখে দিন। ২-৩ মিনিট আরাম করুন।
* কনুইয়ে ভর দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ ধীরে ধীরে যতটুকু পারেন ওপরে তুলুন। ১০ সেকেন্ড এভাবেই থাকুন।
* উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালুতে ভর দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ ধীরে ধীরে ওপরে তুলুন। এভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন। আবার ধীরে ধীরে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন।


 ডান হাতের তালুতে ভর দিয়ে এভাবে বাম হাত ও ডান পা ওপরে তুলুন

ব্যায়াম
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতগুলো শরীরের পাশে রেখে দিন। হাতের ওপর ভর না দিয়ে ডান পা সোজা রেখে শ্বাস নিতে নিতে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলুন। যতটুকু পারেন ওপরে তুলে রাখুন। এবার দুই পা একসঙ্গে সোজা করে ওপরে তুলে ১০ পর্যন্ত গুনুন। 


 এবার বাম হাতে ভর দিয়ে ডান হাত ও বাম পা তুলুন

ধীরে ধীরে নামান। এবার হাতের ওপর ভর না দিয়ে দুই পা ও কোমরের ওপরের অংশ একসঙ্গে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিচে নামান। এভাবে পাঁচবার করে ব্যায়ামটি দিনে তিনবার করুন। ব্যথা বেশি হলে একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।


পেটে ভর দিয়ে এভাবে হাত ও পা ওপরে তুলে ১০ সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে নীচে নামান। ব্যায়​ামের ধাপগুলো দেখিয়েছেন দয়িতা

লেখক
: জ্যেষ্ঠ ফিজিওথেরাপিস্ট, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি), সাভার, ঢাকা

Tuesday, 17 January 2017

প্রাথমিকের বইয়ে ভুল আর ভুল

চার বছর আগে প্রাথমিকের পাঠ্যবইগুলো প্রথম প্রকাশের পর সরকার এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু প্রতিবছর একটু একটু করে পরিমার্জন করা হয়েছে, সঙ্গে ভুল ও অসংগতিও বেড়েছে। পঞ্চম বছরে এসে ভুলের পাশাপাশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে নতুন কিছু সংযোজন-বিয়োজন নিয়ে।
প্রাথমিকের পাঁচটি শ্রেণিতে মোট বইয়ের সংখ্যা ইংরেজি ভার্সনসহ ৫৬। এ বছর প্রাথমিক স্তরের জন্য ছাপা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি বই, যা বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা বইগুলোতে পরিবর্তন বেশি, ভুলভ্রান্তিও অনেক। ঢাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে এবং বইগুলো নানাভাবে পর্যালোচনা করে প্রাথমিকের ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কেবল উল্লেখযোগ্য ভুলগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ৫৮ পৃষ্ঠায় ‘আমাদের জাতির পিতা’ শীর্ষক লেখায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মায়ের নাম লেখা হয়েছে ‘সায়েরা বেগম’। এটা হবে ‘সায়েরা খাতুন’।
প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের শেষ লেখাটি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। ১৬ লাইনের লেখায় কবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, কবে দেশ স্বাধীন হয়েছে, কার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, এর উল্লেখ নেই। লেখাটি পড়ে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না।
প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যসূচি যৌথভাবে পর্যালোচনা করা নিলুফার বেগম ও ফোরকান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম শ্রেণির শিশুর উপযোগী বর্ণনা ওই লেখায় নেই। তা ছাড়া তথ্যহীন এই লেখায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিশুরা কী শিখবে?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পাঠ্যবইয়ের সব ভুলত্রুটি ঠিক করে সংশোধনী দেওয়া হবে। এ জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বইয়ের মান কতটা খারাপ হয়েছে, কেন খারাপ হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভালো করার সব চেষ্টা করা হবে। আগামী বছর আর ভুলত্রুটি থাকবে না।
লেখকের নাম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান
পঞ্চম শ্রেণিতে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মতারিখ লেখা হয়েছে ২৫ মে, এটা হবে ২৪ মে। সেখানে আগস্ট বানানে ‘ষ্ট’ দেওয়া হয়েছে। একই বইয়ে জসীমউদ্‌দীনের নামের মাঝখানে স্পেস দেওয়া হয়েছে, যা ভুল। সুকুমার রায়ের পরিচিতিতে জন্মসাল থাকলেও তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, তার উল্লেখ নেই। বইয়ের ৪০ পৃষ্ঠায় কান্তজির মন্দির নির্মাণের সাল উল্লেখ আছে ১৯৫২, এটা হবে ১৭৫২।
নজরুলের ‘সংকল্প’ কবিতায় পাঁচটি ভুল
পঞ্চম শ্রেণিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সংকল্প’ কবিতায় অন্তত পাঁচটি ভুল রয়েছে। প্রথম লাইনে আছে, ‘থাকব না কো বদ্ধ ঘরে’। এটা হবে ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’। আরেক লাইনে আছে, ‘পাতাল ফেড়ে নামব নিচে’। এটি হবে, ‘পাতাল ফেড়ে নামব আমি’। আরেকটি লাইন, ‘উঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে’। এটা হবে, ‘উঠব আমি আকাশ ফুঁড়ে।’ বিশ্বজগৎ-এর মাঝখানে হাইফেন (-) দেওয়া হয়েছে। ঠিক দুই পৃষ্ঠা পরে আবার হাইফেন ছাড়াই বিশ্বজগৎ লেখা আছে।
কবিতার প্রথম লাইনে ভুল
তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে কুসুমকুমারী দাশের বহুল পরিচিত ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় কয়েকটি লাইন বিকৃত হয়ে গেছে। কবিতার প্রথম লাইনে বলা আছে, ‘আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে’। এটা হবে, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে’। এ ছাড়া ‘মানুষ হইতে হবে’। এটা পাল্টে লেখা হয়েছে ‘মানুষ হতেই হবে’। এক জায়গায় ‘চায়’ কে ‘চাই’ হিসেবে ছাপা হয়েছে। কবিতায় কবির লেখা আরও কয়েকটি শব্দ পাল্টে ফেলা হয়েছে। বইয়ে ‘আমাদের গ্রাম’ গল্পে অনুশীলনীতে গাঁয়ের শব্দটি ভুলভাবে গায়ের লেখা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে আছে ‘ধরনী’। এই শব্দে দন্ত্য-ন স্থলে মূর্ধন্য-ণ হবে।
শিক্ষার শুরুতেই ধাক্কা
প্রথম শ্রেণির ২০১৩ ও ২০১৭ সালের বই দুটি হাতে নিয়ে দেখা যায়, এটিকে পর্যায়ক্রমে নষ্ট করা হয়েছে। বইয়ের প্রথম ছড়া ‘আতা গাছে তোতা পাখি’। ২০১৩ সালে চার লাইনের এই ছড়া নিয়ে এক পৃষ্ঠার অলংকরণ ছিল দৃষ্টিনন্দন। ২০১৭ সালে একই রকম ছবি আঁকার অনর্থক চেষ্টা হয়েছে, পৃষ্ঠার নিচের দিকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে আম, বাদুড় ও বকের ছবি দেওয়া হয়েছে। বইজুড়ে এভাবে ছবি ও অলংকরণ নষ্ট করা হয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর ১১ পৃষ্ঠার চারটি ছবির কথা আসছে ঘুরেফিরে। শিশুদের শেখানোর জন্য অজ, অলি, আম ও আতার ছবি দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে একাধিক শিক্ষক ও গবেষকের মত হচ্ছে, চারটি ছবির একটিও যথার্থ হয়নি।
সেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আদর্শলিপি’ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ‘অ’ দিয়ে অজগর সাপ শেখানো হয়। কিন্তু ভয়ংকর বিবেচনায় সাপ দেওয়া ঠিক হবে না বলে মত আসে। তাই অজগরের বদলে অ বর্ণ দিয়ে অপ্রচলিত ‘অজ’ ও ‘অলি’ শব্দ দেওয়া হয়।
একজন শিক্ষক বলেন, ‘অজ’ মানে ছাগল। কিন্তু স্নাতক পাস করা অনেকেও ‘অজ’ শব্দের মানে জানেন না। তা ছাড়া যে ছাগলের ছবি দেওয়া হয়েছে, সেটি দেশি ছাগল নয়। আবার ছাগল আমগাছে ওঠে না, এটা ভুল বার্তা। তা ছাড়া সাধারণত এত ছোট আমগাছে আম হয় না। আমের ছবিও বোঝা যাচ্ছে না। একটা কিশোর গাছ থেকে আম পেড়ে খেতে পারে। কিন্তু একটা ছাগল গাছ থেকে আম ছিঁড়ে খাচ্ছে, এমন ছবি বেমানান। একই অবস্থা অলি শব্দেরও, এর মানে মৌমাছি। বইয়ে মৌমাছির যে ছবি দেওয়া আছে, তা দেখে একটি অচেনা পোকা মনে হয়।
প্রাথমিকের পাঠ্যবই পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী পরিচালক নিলুফার বানু প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে মৌমাছি না অলি, ছাগল না অজ—কোনটা শেখানো উচিত, সেই বিবেচনা যথার্থ হয়নি। তাঁর মতে, ‘ও’ দিয়ে ওড়না শেখাতে হবে কেন? তা ছাড়া একটি শিশুকে যেভাবে ওড়না পরানো হয়েছে, তা স্বাভাবিক মনে হওয়ার কারণ নেই।
ছবির মান প্রতিবছর খারাপ হচ্ছে
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা বলছেন, শিশুদের বইয়ে বিষয়বস্তুর সঙ্গে ছবির সম্পর্ক থাকা জরুরি। ২০১৩ সালে নতুনভাবে ছাপার আগে প্রাথমিকের বই হাতে নিলেই বিরক্তির সৃষ্টি হতো। দীর্ঘ সমালোচনা ও দাবির পর সরকার ভালো কাগজ ও উন্নত মলাটে চার রঙের বই দেওয়া শুরু করে।
২০১৩ সালে চার রঙে প্রাথমিকের নতুন বই প্রথম ছাপা হয়। তখন টুকটাক ভুল ধরা পড়লেও ওই বইয়ের ছবিগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জন হতে হতে ছবির মান তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখন পাঠ্যবইয়ের বেশির ভাগ ছবির আকার ও আকৃতি অস্পষ্ট।
বইয়ে শিল্প সম্পাদক হিসেবে রয়েছে শিল্পী হাশেম খানের নাম। দায়বদ্ধতার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে এনসিটিবি তাদের ইচ্ছামতো ছবি ও অলংকরণ পরিবর্তন করেছে। একটিবারের জন্যও তাদের মনে হয়নি, শিল্প সম্পাদক হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করছে, আমাকে অন্তত জিজ্ঞাসা করা উচিত। অনুপাতহীন ছবি এবং ভুল ছবি দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে।’
হাশেম খান আরও বলেন, বিনা মূল্যে বই দেওয়া সরকারের একটা ভালো অর্জন, এটাকে বিনষ্ট করার জন্য এনসিটিবির ভেতর থেকে কেউ ষড়যন্ত্র করছে বলে মনে হয়।
প্রথম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অসংলগ্ন ছবি রয়েছে বেশ কয়েকটি। তৃতীয় পৃষ্ঠায় একটি শ্রেণিকক্ষের ছবি দেওয়া আছে। প্রতিটি শিশুর সামনে ব্যাগভর্তি বইয়ের স্তূপ। প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর সামনে এত বই থাকার কথা নয়। ‘এ’ দিয়ে একতারা এবং ‘ঢ’ দিয়ে ঢাক দেখাতে চাইলেও সেগুলো তা নয়। ২০ পৃষ্ঠায় একটি বককে আমগাছে বসানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণত বক থাকে খাল-বিল বা জলাশয়ে। এই চিত্রই অধিক পরিচিত। একই পৃষ্ঠায় বলা আছে, ‘মগ ডালে ময়না দোলে’। কিন্তু ময়না পাখিটি মগডালে নয়, গাছটির মাঝামাঝি বসানো হয়েছে। ৩৬ পৃষ্ঠায় শিশুর হাতে বন্দুক দেওয়া আছে, সে শিকারে যাচ্ছে। একদিকে বন্দুক, আরেকদিকে শিকার। দুটি বিষয় প্রথম শ্রেণির শিশুর উপযোগী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বইয়ে মৃগছানা ও উটের ছবিগুলো দিয়ে ওই প্রাণী বোঝায় না। বইয়ের বিভিন্ন পাতা ভৌতিক ও অবাস্তব ছবিতে ভরপুর।
ইসলাম শিক্ষা’র বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন
চতুর্থ শ্রেণির ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ৮৪ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘তাঁর স্ত্রী সারা (রা)কে তাঁদের পুত্র ইসহাকের জন্মের সুসংবাদ দেন। ওই সময় ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ছিল ৯০ বছর এবং সারা (রা) ছিলেন বন্ধ্যা।’ ইসলাম শিক্ষার কয়েকটি বই পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, প্রজনন বা বন্ধ্যত্ব বিষয়ের এই বর্ণনা শিশুমননের উপযোগী নয়।
পরিবেশের বর্ণনা ইসলাম শিক্ষায়
পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে চার পৃষ্ঠার বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইগুলোতে পরিবেশ ও প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। প্রায় একই ধরনের বর্ণনা পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে দেওয়া হয়েছে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সমাজপাঠের অন্তর্ভুক্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইসলাম শিক্ষা থেকে বাদ দেওয়া আবশ্যক।
হার্ট ও রিপাবলিক
প্রাথমিকের ইংরেজি বইয়ের পেছনে ‘...বাই দ্য গভর্নমেন্ট অব বাংলাদেশ’ লেখা। এটা ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ হওয়ার কথা। তৃতীয় শ্রেণির ‘হিন্দু ধর্ম শিক্ষা’ বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে DO NOT HEART ANYBODY। এটা হবে HURT।
আরও কিছু অসংগতি
তৃতীয় শ্রেণির ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠায় সালাত সম্পর্কে বর্ণনায় সাত লাইনে ১০ বার আছে এই (সালাত) শব্দটি। কিন্তু একবারও বলা হয়নি যে ওই শব্দটির মানে নামাজ। পঞ্চম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর ১৩ পৃষ্ঠায় চিতা বাঘের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘এক প্রকার বাঘ। অন্য বাঘের সঙ্গে চিতাবাঘের পার্থক্য চিতাবাঘ অন্যান্য বাঘের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারে ও গাছে উঠতে পারে।’ এখানে বাক্যটি ত্রুটিপূর্ণ। যতিচিহ্ন, বিরামচিহ্নসহ টুকটাক অসংখ্য ভুল রয়েছে বিভিন্ন বইয়ে। বিশেষ করে বিখ্যাত লেখকদের মূল লেখার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মিল নেই।
তবে লেখক, গবেষক ও প্রকাশকেরা বলছেন, এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। সৃজনশীল প্রকাশকদের নেতা ওসমান গণি প্রথম আলোকে বলেন, এনসিটিবি বইয়ের কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করতে না পারলে আউটসোর্সিং করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতাই নিয়োগের প্রথম শর্ত হওয়া উচিত, যেটি সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে কারা, কীভাবে আসেন, কত দিন থাকেন—সেসব বিষয় পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।
জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি কারণে এ ধরনের অবস্থা তৈরি হয়; নিজ দায়িত্ববোধের অভাব, প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ক্ষমতা, তদারকি বা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাব। এ ছাড়া রাজনীতিকরণ হলে যোগ্যরা সঠিক জায়গায় বসতে পারেন না, তাঁদের কাজের মূল্যায়নও হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের মতে, জাতীয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ এই কাজে ভুল-ভ্রান্তি দূর করতে প্রয়োজনে বাইরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে হবে। সম্পাদক ও সংকলকদের ওপরে আর কোনো উচ্চতর সম্পাদক রাখা চলবে না এবং সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদেরই দায়বদ্ধ করতে হবে। ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মনে করেন, শুদ্ধিপত্র বা সংশোধনী দেওয়াটা কোনো সমাধান নয়, পাঠ্যবই নির্ভুল করতে হবে।

Sunday, 6 November 2016

যা খেলে হিমোগ্লোবিন বাড়বে

রক্তকোষে লৌহসমৃদ্ধ একধরনের প্রোটিন হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এটি শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। সুস্থ জীবনযাপনে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক থাকা প্রয়োজন। কিছু খাবার খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মান ঠিক রাখা যায়।

ভারতের ফর্টিস হাসপাতালের চিকিৎসক মনোজ কে আহুজার মতে, রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঝিম ধরা, ক্ষুধামান্দ্য ও দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা যায়। যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অনেক কম হয়, তবে রক্তাল্পতা বা এর চেয়েও মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসক আহুজার মতে, ‘সবার লৌহের দরকার হয়। তবে নারীদের ঋতুচক্রের সময়, গর্ভাবস্থায়, শিশুদের বেড়ে ওঠার সময়, রোগ থেকে সেরে ওঠার মুহূর্তে লৌহের বেশি দরকার হয়। সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর উপায় বর্ণনা করা হয়েছে। দেখে নিন কী খেলে হিমোগ্লোবিন বাড়বে।

লৌহযুক্ত খাবার

শরীরে লৌহের ঘাটতি হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে লোহা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। লৌহসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মুরগির কলিজা, ঝিনুক, ডিম, আপেল, বেদানা, ডালিম, তরমুজ, কুমড়ার বিচি, খেজুর, জলপাই, কিশমিশ ইত্যাদি।

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি-এর অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। তা ছাড়া ভিটামিন সি ছাড়া লোহা পুরোপুরিভাবে শোষণ হয় না। পেঁপে, কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, গোলমরিচ, সবুজ ফুলকপি (ব্রকোলি), আঙুর, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে।

ফলিক অ্যাসিড

ফলিক অ্যাসিড একপ্রকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটি লাল রক্তকণিকা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপাদান। সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, কলিজা, ভাত, শিমের বিচি, বাদাম, কলা, সবুজ ফুলকপিতে অনেক ফলিক অ্যাসিড পাওয়া যায়।

বিট

হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ফাইবার ও পটাশিয়াম। এর পুষ্টিমান শরীরের লাল রক্তকণিকা বাড়ায়।

আপেল

দিনে একটি করে আপেল খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে পারেন। আয়রনের উৎস আপেলে আরও নানা প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন খোসাসহ একটি আপেল খান। অথবা সমানুপাতে আপেল ও বিটের রস মেশাতে পারেন।

ডালিম
আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ ডালিম রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। প্রতিদিন মাঝারি আকৃতির একটি ডালিম খাওয়ার চেষ্টা করুন। অথবা এক গ্লাস ডালিমের জুস খান। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

Saturday, 5 November 2016

এখনকার স্মার্টফোন কেনার আগে যা দেখবেন

মোবাইল ফোন এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী। যোগাযোগ, ছবি তোলা, ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ছাড়াও স্মার্টফোন পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। বাজারে এখন নানা রকম স্মার্টফোন কিনতে পাওয়া যায় বলে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। বাজারে অত্যাধুনিক ফিচারের ফোনগুলো তা আরও কঠিন করে তুলেছে। এ ধরনের দামি স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্যাজেটস নাউ। দেখে নিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো:

তৈরির উপাদান

ফোনের স্থায়িত্ব কেমন হবে, তা মাথায় রাখতে হবে। বাজারে সাধারণত প্লাস্টিক ও ধাতব কাঠামোর ফোন পাবেন। কিছু ফোনে অবশ্য কাচের কোট দেওয়া আছে। যাঁদের হাত থেকে জিনিস প্রায় সময় পড়ে যায়, তাঁরা ধাতব বা প্লাস্টিকের ফোন কিনুন। এ ধরনের ফোনগুলো দুই থেকে তিন ফুট ওপর থেকে পড়লেও টিকে যেতে পারে।

ডিসপ্লে

ফোনের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে ফোনের ডিসপ্লের আকার ও রেজুলেশন ঠিক করতে হবে। যাঁরা ভিডিও স্ট্রিমিং, ছবি সম্পাদনা, ভিডিও বা মুভি ডাউনলোড করেন, তাঁরা অবশ্যই সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি ডিসপ্লের ফুল এইচডি বা কিউএইচডি ডিসপ্লের ফোন নেবেন। এর চেয়ে বড় মাপের ফোন নিলে বহন করতে সমস্যা হবে। যাঁরা সাধারণত ইন্টারনেট ব্রাউজিং, চ্যাটিং কিংবা ই-মেইল, ফেসবুক চালানোর মতো কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তাঁরা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের এইচডি বা ফুল এইচডি ডিসপ্লের ফোন নিতে পারেন।

প্রসেসর

অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ, ইউজার ইন্টারফেস, বোল্টওয়্যারের মতো নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্মার্টফোনের প্রসেসিংয়ের ক্ষমতার পার্থক্য হয়। যাঁরা স্মার্টফোনে ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা, ডকুমেন্ট সম্পাদনা, ভারী গেম খেলা, ভিডিও স্ট্রিমিং ও স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ বা স্ন্যাপড্রাগন ৮২০/৮২১ প্রসেসরের ফোন নিতে পারেন। এতে মাল্টিটাস্কিং-সুবিধা পাওয়া যায়। আর যাঁরা স্মার্টফোন হালকা কাজে ব্যবহার করেন, তাঁরা মিডিয়াটিক প্রসেসর ব্যবহার করতে পারেন।

ক্যামেরা

ফোনে বেশি মেগাপিক্সেল থাকা মানেই কিন্তু সে ফোনের ক্যামেরা ভালো নয়। ক্যামেরার অ্যাপারচার, আইএসও, পিক্সেলের আকার ও অটোফোকাসের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকসংখ্যক পিক্সেল থাকা মানে ছবির আকার বড় হওয়া। অর্থাৎ, ছোট স্ক্রিনে ছবি আরও শার্প হওয়া। উৎসাহী আলোকচিত্রীরা অবশ্যই ক্যামেরার অ্যাপারচারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন। ১২ মেগাপিক্সেল বা ১৬ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের সঙ্গে অ্যাপারচার f/2.0 বা তার নিচে হলে কম আলোতেও ভালো ছবি উঠবে। যাঁরা সাধারণ ছবি তোলেন, তাঁরা অবশ্য ৮ বা ১২ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের সঙ্গে অ্যাপারচার f/2.0 বা f/2.2 দেখে নিতে পারেন।

ব্যাটারি
ফোন কতটা কাজে লাগান, তার ওপর নির্ভর করে ব্যাটারি ক্ষমতা দেখে নিতে হবে। যাঁরা বেশি বেশি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন, গেম খেলেন বা ভিডিও দেখেন, তাঁরা স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাড়ে তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি নেবেন। যাঁরা গড়পড়তা বা হালকা ব্যবহারকারী, তাঁদের জন্য তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিতে কাজ চলে যাবে।

অপারেটিং সিস্টেম
এখনকার স্মার্টফোন কেনার আগে অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ ও ইউজার ইন্টারফেসের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ইউজার ইন্টাফেস ব্যবহার করে বারবার কাজ করা হয়, তাই এটি যত সহজ ও সাধারণ হয় ততই ভালো। নিখুঁত অ্যান্ড্রয়েডের অভিজ্ঞতা পেতে মটোরোলা, নেক্সাস/পিক্সেল, অ্যান্ড্রয়েড ওয়ানচালিত ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া জেনইউআই, এক্সপেরিয়া ইউআই, স্যামসাং টাচউইজ, ইএমইউআইয়ের মতো ইন্টারফেসগুলোও ব্যবহারবান্ধব।

স্টোরেজ
স্মার্টফোনের স্টোরেজ বিবেচনায় ধরলে এর বেশির ভাগ জায়গা দখল করে থাকে অপারেটিং সিস্টেম ও প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপগুলো। এ ছাড়া যেসব ফোনে ১৬ জিবি, ৩২ জিবি বা ৬৪ জিবি জায়গার কথা বলা হয়, আসলে তাতে ওই পরিমাণ জায়গা থাকে না। যাঁরা স্মার্টফোনে অল্প অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা ৩১ জিবি স্টোরেজ আছে—এমন স্মার্টফোন নিতে পারেন। যাঁরা বেশি অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা ৬৪ বা ১২৮ জিবি স্টোরেজ আছে—এমন স্মার্টফোন পছন্দ করবেন। ১৬ জিবি স্টোরেজের স্মার্টফোন কিনলে তাতে মাইক্রোএসডি সমর্থন করে কি না, তা দেখে নেবেন।

নিরাপত্তা
এখনকার বেশির ভাগ ফোনেই বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার থাকে। যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিশ সেনসর। এসব ফিচার কেবল ফোন লক-আনলকের কাজেই নয়, বরং নির্দিষ্ট ফাইলে পাসওয়ার্ড দিতেও ব্যবহার করা যায়। এখনো আইরিশ স্ক্যানারের ফোন ততটা সহজলভ্য নয় বলে অন্তত বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার আছে—এমন ফোনগুলো দেখতে পারেন।

স্পিকার
এখনকার ফোন কেনার আগে অবশ্যই অডিওর মান দেখে নেবেন। কারণ, যাঁরা ভিডিও কনফারেন্স বা ভিডিও স্ট্রিমিং করেন, তাঁদের জন্য অডিওর মান ভালো হওয়া দরকার। যাঁরা চলতি পথে বিনোদন পছন্দ করেন, তাঁরা সামনের দিকে স্পিকারযুক্ত ফোন কিনতে পারেন। যাঁরা সাধারণ কাজে ফোন ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্য পেছনে স্পিকারযুক্ত স্মার্টফোন কিনলেও সমস্যা নেই।

হেডফোন জ্যাক
স্মার্টফোনে কোন ধরনের পোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এখনকার স্মার্টফোনে মাইক্রো ইউএসবি ও ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট পাওয়া যায়। সুবিধার কথা বিবেচনায় ইউএসবি টাইপ-সি বেছে নেওয়া ঠিক হবে। কারণ, এটি প্লাগ ইন করা সহজ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পোর্টের ব্যবহার বাড়বে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Friday, 21 October 2016

ওয়ারেন বাফেট এর উক্তি

উপার্জন : কখনই আয়ের একমাত্র উৎসের উপর নির্ভর করবেনা, বিনিয়োগের মাধ্যমে আরেকটি উৎস তৈরি করুন

খরচ : আপনার যা প্রয়োজন নেই তা যদি আপনি ক্রয় করেন, তবে শিঘ্রই আপনার যা প্রয়োজন তা বিক্রি করতে হবে

সঞ্চয় : খরচের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় না করে বরং সঞ্চয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা খরচ করুন

ঝুঁকি : আপনার উভয় পা ডুবিয়ে দিয়ে কখনই নদীর গভীরতা মাপবেন না

বিনিয়োগ : কখনই সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না

প্রত্যাশা : সততা খুবই দামি একটি উপহার, তা কখনই সস্তা লোকেদের নিকট থেকে আশা করবেন না