Friday, 7 April 2017

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সাথে share করছি

Engr Mahmudul Hasan

https://www.facebook.com/cse.mahmud/posts/1341555732556656

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সাথে share করছি । হয়তো কারও কাজে লাগলেও লাগতে পারে । বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় CGPA সংক্রান্ত ৩ ধরণের তথ্য পেয়েছি ।
(১) CGPA কোনও ব্যাপারই না । CGPA দিয়ে কিছুই আসে যায় না ।
(২) CGPA 3.00 – এর বেশি হলেই যথেষ্ট ।
(৩) CGPA 3.50 – এর কম হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার ।
(১) নং তথ্যটি 100% ভুল । (২) নং তথ্যটি 50% সঠিক । এবং (৩) নং তথ্যটিও 50% সঠিক । যাদের CGPA 3.50 – এর চাইতে বেশি, তাদের অবস্থা খুবই ভালো । তবে, যাদের CGPA 3.00 – এর চাইতে বেশি, কিন্তু, 3.50 – এর চাইতে কম, তাদেরও হতাশ হউয়ার কোনও কারণ নাই । তাদেরকে অবশ্য একটু বেশি প্যারা নিতে হবে । GRE, IELTS, TOFEL, JLPT ( Japanese Language Proficiency Test ) কিংবা NAT Test ইত্যাদিতে ভালো score থাকা লাগবে । সেই সাথে Research Paper Publication থাকলে আরোও ভালো হয় । না থাকলেও problem নাই । আবার যাদের CGPA 3.50 – এর চাইতে বেশি, তাদেরকেও প্যারা নিতে হবে । তবে প্যারার পরিমাণ কারও ক্ষেত্রে কম । আবার কারও ক্ষেত্রে বেশি । আর যাদের CGPA 3.00 – এর চাইতে কম, আবার সবাইকে বলে বেড়ায় যে, “ CGPA ধুইয়া পানি খাও । “, তাদের জন্য রইলো আমার ২ মিনিট নীরবতা এবং এক বালতি সমবেদনা ।
এবার আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আসি । আমি ২০১৪ সালে Mawlana Bhashani Science and Technology University থেকে Computer Science and Engineering থেকে B.Sc. (Engineering) সম্পন্ন করি । CGPA 3.28 out of 4.00 . এরপর একটি Software Firm – এ ASP.Net – এর উপর ১ বছর চাকরি করি । চাকরির পাশাপাশি Daffodil International University থেকে Computer Science and Engineering – এ M.Sc. করি । CGPA 3.96 out of 4.00 . ২০১৫ সালে আমি M.Sc. সম্পন্ন করি । M.Sc. – তে সর্বোচ্চ CGPA পাওয়ার জন্য Vice Chancellor’s Gold Medal অর্জন করি । IELTS – এ 6.0 পাই । এরপর Australia – এর CQUniversity থেকে 20% scholarship – সহ Master of Information Technology পড়ার সুযোগ পাই । CQUniversity Australia – এর একটি public university . Master of Information Technology Course – টি Australian Computer Council ( ACS ) অনুমোদিত । Sponsor ছিলো আমার বাবা মা দুইজন । Sponsor – এর annual income ১৮ লাখ টাকা । এছাড়া ৩০ লাখ টাকার Savings Account এবং ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেখিয়েছিলাম । Income Tex – এর certificate – ও show করেছিলাম ।
কিন্তু অনভিজ্ঞ Visa Agent – দের দিয়ে visa processing করিয়ে বিপদে পড়েছি । Australian Embassy – তে visa interview – এর আগে তারা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলো যে, আমি যেন বলি, “ বিদেশে পড়াশোনা শেষ করার পর বিদেশে চাকরি করার ইচ্ছা আছে । “ আমি জানতাম, visa interview – তে এটা বলা উচিৎ না । আমার বলা উচিৎ পড়াশোনা শেষ করার পর আমি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাই । আবার ভাবলাম, visa agent – রা আমাকে যা শিখিয়েছে, সেটা বলাটাই বোধ হয় ভালো । তাই আমি visa interview – তে বললাম, “ আমি পড়াশোনা শেষ করার পর বিশ্বের সেরা IT Firm, যেমন, Google, Yahoo কিংবা Microsoft – এ চাকরি করতে চাই । “ Google, Yahoo কিংবা Microsoft USA – তে অবস্থিত । আমি কিন্তু বলি নাই যে, আমি Australia – তে চাকরি করতে চাই । Just বলেছি, যে, বাংলাদেশের বাইরে চাকরি করতে চাই । এবং সেটাই ছিলো আমার জীবনের অন্যতম সেরা ভুল গুলোর একটি ।
আবার, Australia – এর visa officer আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো যে, আমি তো already বাংলাদেশ থেকে CSE – তে M.Sc. করেছি । তাহলে, আমি আবার কেন Australia – তে Master of Information Technology course করতে চাচ্ছি । আমি এ প্রশ্নটিরও যথাযথ উত্তর দিতে পারি নাই । আমি যদি আমার বাংলাদেশের M.Sc. Degree show না করতাম, তাহলে, কোনও ঝামেলাই হতো না । আমার visa agent – দের উচিৎ ছিলো আমাকে এই advice দেওয়া । যে, আমার বাংলাদেশের M.Sc. Degree hide করে Australia – তে M.Sc. course – এর জন্য apply করতে হবে । যা হোক, আমার Australia – এর Student visa refuse হলো । Visa Refusal Letter – এ লিখেদিলো, Non – Genuine Temporary Entrant . আমি আর কোনও দিনই Australia – এর student visa – এর জন্য apply করতে পারব না ।
এরপর আমার agent – দের কাছে পরামর্শ চাইলাম যে, কোন দেশে apply করলে ভালো হয় । তারা বললো New Zealand – এ apply করার জন্য । আমিও আমার agent – দের কথামতো তৃতীয় ভুল পদক্ষেপ নিলাম । Australia এবং New Zealand visa refusal information – সহ সবরকম information share করে । New Zealand Embassy আমার Australian Visa Refusal খুঁজে বের করলো । এবং New Zealand – এর visa ও refuse হয়ে গেলো । Australia – এর visa refuse হলে, কখনই New Zealand – এ apply করা উচিৎ না । আমার agent – রা শুধু Australia, New Zealand আর Malaysia – এই তিনটা দেশ নিয়েই কাজ করতো । আমি যদি Australia – এর visa refuse হউয়ার পর অন্য কোনও agent – এর সাহায্য নিয়ে USA কিংবা Canada যেতাম, তাহলে, আমার সাধের agent – দের কোনও লাভ হত না ।
New Zealand – এর visa refuse হউয়ার পর আমার সাধের agent – রা আমাকে চতুর্থ ভুল advice দিলো । তারা আমাকে বললো Malaysia – তে apply করার জন্য । Malaysia – এর visa পাওয়া নাকি খুবই সহজ । Previous visa refusal নাকি কোনও Bad Effect ফেলে না । আমার সাধের agent – রা Australia, New Zealand এবং Malaysia এই তিনটা দেশ নিয়েই কাজ করতো । কিন্তু আমি তাদের চতুর্থ ভুল advice Follow করলাম না । Internet – এ Malaysia – এর job market সম্পর্কে খোঁজ নিলাম । জানতে পারলাম, প্রবাশীদের জন্য Malaysia – এর Job Market খুবই সীমিত । Malaysian Employer – রা বিদেশীদের চাকরি দিতে চায় না । বহু International Students Malaysia – তে পড়াশোনা করার পর চাকরি না পেয়ে দেশে ফিরে আসে । তাই Malaysia যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করলাম ।
Australia – তে tuition fee বাবদ ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম । ৫ লাখ টাকা Refund পেয়েছি । আর বাকি ৫ লাখ টাকা loss . বাসায় আব্বু শুধু রাগারাগি করতো । বলতো, বাসা থেকে বের হয়ে যা ।
যাহোক, আমি হাল ছেড়ে দিলাম না । Internet – এ বিভিন্ন দেশ নিয়ে research করতে থাকলাম । কোন দেশের visa পাওয়া সহজ, চাকরির সুযোগ অনেক বেশি এবং Previous #visa #refusal bad effect ফেলে না । শেষ পর্যন্ত #Japan যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম । এবার আর কোনও অনভিজ্ঞ visa agent – দের দিয়া কাজ করাব না । জাপানের visa process করার জন্য বাংলাদেশের সেরা agent – দের কাছে গেলাম । আমার এখনকার agent – রা অনেক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ । তাদের কাছে জানতে পারলাম, জাপানে M.Sc. করতে চাইলে প্রথমে, বাংলাদেশ থেকে ৬ মাসের Japanese Language Course করতে হবে । তারপর জাপান যেয়ে আরো এক বছর বা দুই বছর Japanese Language Course করতে হবে । তারপর M.Sc. করতে পারবো ।
২০১৬ সালের May মাসে তাদের কাছে Japanese Language Course – এ ভর্তি হই । ২০১৬ সালের December মাসে Japanese Language Test: NAT Test – এ 167 out of 180 score করি, যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ Record . এছাড়া JLPT (Japanese Language Proficiency Test) N5 – এ 118 out of 180 score করি । Japanese Language Institute : Shinjuku International Exchange School, Tokyo – এ Japanese Language Course করার সুযোগ পাই । April 2017 intake – এ । আল্লাহর অশেষ রহমতে, এ বছর, ২০১৭ সালের March মাসে জাপানের student visa পাই । আর কয়েকদিন পর April মাসে ইনশাল্লাহ জাপান যাবো ।
যদি কষ্ট করে ধৈর্য সহকারে পুরোটুকু পড়ে থাকেন, তাহলে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, যে, visa processing – এর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ visa agent – দের ভূমিকা কতটা গুরুত্ত্বপূর্ণ । এখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ agent – দের তালিকা দিলাম ।
(১) Australia, New Zealand ও Canada – এর জন্য
IDP Education
https://www.idp.com/bangladesh/studyabroad
(২) Japan – এর জন্য
Daffodil Japan IT
http://djit.ac/
অথবা,
Ichiban Study Link
https://www.facebook.com/ichibansl/
(৩) GRE, USA বা Canada – এর জন্য
GRE Center
http://www.grecenter.org/wp/
শুরুর কথা দিয়েই শেষ করি । কাউকে কম প্যারা নিতে হয় । আর কাউকে বেশি । আমাকে প্যারা নিতে হয়েছে অনেক বেশি । কিন্তু আমি কখনই হাল ছাড়ি নাই । কারণ, হেরে যাবো বলে তো স্বপ্ন দেখি নাই । Life is nothing, But the game of something ……

No comments:

Post a Comment