গাড়ি কিনতে চান? একসঙ্গে টাকার সংস্থান করতে পারছেন না?
গাড়ি কিনতে এখন ঋণ দিচ্ছে বেসরকারি প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক।
ক্ষেত্রবিশেষে এক দিনেই এই ঋণ ছাড় করা হচ্ছে। যদি আপনার আবেদনের নথিপত্রে
কোনো ঘাটতি না থাকে, তবে এক দিনেই মিলতে পারে গাড়ির ঋণ। এখন কোনো ব্যাংক
স্বল্প সময়ে আবার কোনো ব্যাংক এক দিনেই গাড়ির ঋণের আবেদন চূড়ান্ত করছে।
সুদের হারও কমিয়ে এনেছে ব্যাংকগুলো। ফলে নিজের প্রয়োজনে গাড়ি কেনা এখন
কোনো স্বপ্ন নয়। কারণ, গাড়ি কিনতে দামের অর্ধেক জোগান দিচ্ছে ব্যাংক।
২০১৪ সালের আগস্টে ব্যক্তি পর্যায়ে গাড়ি কেনায় ব্যাংকঋণের
সীমা দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গাড়ি কিনতে আগে ব্যাংকের ২০ লাখ টাকা ঋণ
দেওয়ার সুযোগ ছিল, ২০১৪ সালে তা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে
গাড়ি কেনায় ঋণ ও নিজস্ব অর্থের অনুপাতে পরিবর্তন এনে ৫০: ৫০ করা হয়। আগে
গাড়ির দামের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ দিতে পারত ব্যাংক। গাড়ি ব্যবসায়ীদের
সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস
অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) চাপেই এ পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক এখন এক দিনেই
গাড়ির ঋণের আবেদন অনুমোদন দিচ্ছে। গাড়ির দামের অর্ধেক অথবা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ
টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকটি। সুদের হার ধরা হচ্ছে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। যদিও ব্যাংকগুলো এ
হিসাব করে মাস ভিত্তিতে। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।
গত মে মাসেই ১৮ কোটি টাকার গাড়ির ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি। এ পর্যন্ত প্রায়
গাড়ির ঋণে গেছে ৮৫ কোটি টাকা। ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক আয়, এমন
যে কেউ এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব রিটেইল সেলস কায়সার হামিদ প্রথম আলোকে
বলেন, ‘সহজ শর্ত ও কম সুদ হওয়ায় গাড়ির ঋণের গ্রাহকেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি
আগ্রহী। আমরাও চেষ্টা করছি কীভাবে সহজেই গ্রাহকদের সেবা দেওয়া যায়।
নথিপত্র ঠিক থাকলে আমরা এক দিনেই ঋণ অনুমোদন করে গাড়িবিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের
কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’
ঢাকা ব্যাংক গাড়ির ঋণের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।
গাড়ির দামের অর্ধেক ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক, তবে তা কোনোভাবেই ৪০ লাখ টাকারবেশি
নয়। গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে গাড়িবিক্রেতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
চুক্তিও করছে ব্যাংকটি। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার গাড়ির ঋণ বিতরণ
করেছে ঢাকা ব্যাংক।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে
বলেন, ব্যাংকগুলো এখন বড় ঋণের চেয়ে ছোট ছোট ভোক্তা ঋণে বেশি আগ্রহী হয়ে
উঠেছে। কারণ, এসব ঋণ সহজে আদায় করা যায়। ঢাকা ব্যাংকও আগের চেয়ে গাড়ির ঋণে
বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
তবে ব্যাংকের ঋণসীমা প্রযোজ্য হচ্ছে না আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স
একজন গ্রাহককে গাড়ির দামের ৮০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত
ঋণ-সুবিধা দিচ্ছে। ১২ থেকে ৭২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে এই ঋণ। ঋণের
সুদের হার ১৩ শতাংশ। একই ধরনের সুবিধায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসিও ৪০
হাজার টাকার বেশি মাসিক আয়ধারী ব্যক্তিদের গাড়ির ঋণ-সুবিধা দিচ্ছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শুভাশীষ রায় বলেন, ‘আমরা
স্বামী-স্ত্রী দুজনে চাকরিজীবী, প্রয়োজন সত্ত্বেও এত দিন গাড়ি কেনার সাধ্য
হয়নি। তবে সুদের হার ও সহজ শর্তের কারণে গত জুনে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা হয়েছে।
এখন দুজনের চলাচলটাও সহজ হয়ে উঠেছে।’
No comments:
Post a Comment